বাংলাদেশ হিন্দু শূন্য করার প্রয়াস অব্যাহত!
বাংলাদেশ হিন্দু শূন্য করার প্রয়াস অব্যাহত!
নিধুভূষণ দাস
৫ নভেম্বর রাতে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে হিন্দুদের উপর আক্রমণ হয়েছে।এটা খবর নয়। খবর হলো যে, ওই আক্রমণে অংশ নিয়েছিল দেশের সেনাবাহিনী ,বর্ডার গার্ড ও পুলিশ।অভিযোগ এমনই।ছিল ইসলামিস্টরাও।স্মরণযোগ্য, ১৯৭১ সালের ২৫-২৬ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে সেই সূত্রে ৩০ লক্ষ নিরীহ মানুষ খুন হয়েছিল।এই ৩০ লক্ষের ২০ লক্ষই হিন্দু।২০২৩ সালের ১ এপ্রিল দ্য সানডে গার্ডিয়ান পত্রিকার এক প্রতিবেদনে একথা জানা যায়।প্রতিবেদক গেীতম গুহ রায় ঢাকার আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের উদ্ধৃতি দিয়ে একথা লেখেন।
বোঝা যায় ওই অপারেশনের মূল লক্ষ ছিল হিন্দু জনতা।হিন্দুদের জাতিগতভাবে নির্মূল করে ইসলামি ঔক্য স্থাপনের মাধ্যমে পাকিস্তনকে সেযাত্রায় টিকিয়ে রাখা। স্বাধীনতার পরও বাংলাদেশে এই প্রয়াস অব্যাহত।নানারকম অত্যাচার,জমি কেড়ে নেওয়া,অর্পিত সম্পত্তি আইনে জমি হারা হওয়া,ধর্মাচরনে নানা বাধা,ধর্মান্তকরণ ইত্যাদি হিন্দুদের দু:সহ যন্ত্রনার মধ্যে রাখে নি:সন্দেহে।
হিন্দুরা নানা অজুহাতে, নানাভাবে নির্যাতিত হয়ে আসছে সেই ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকেই।সে নাহয় দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে তখন দেশভাগ হয়েছিল।কিন্তু১৯৭১ সালে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের জন্মের পরও হিন্দু নির্যাতন অব্যাহত থাকে,এমনকি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকালেও।শেখ হাসিনাও এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেননি তাঁর শাসনামলে।বরং তাঁর বিরুদ্ধেও মেীলবাদীদের তোষণের অভিডোগ রয়েছে।
দেশভগের আগে ১৯৪১ সালে পূর্ববঙ্গে(বর্তমান বাংলাদেশ) হিন্দু জনসংখ্যার হার ছিল ২৮ শতাংশ।দেশ ভাগের পর ১৯৫১ সালে পাকিস্তানের প্রথম জনগণনায় দেখা যায় তা সাড়ে ৫ শতাংশ নেমে গিয়ে হয় ২২.০৫ শতাংশে।স্মর্তব্য, তখন ব্যাপক হারে হিন্দুরা ভিটেমাটি ছেড়ে ভারতে চলে আসেন।বলে রাখা ভাল,কেউ বাধ্য না হলে সব ছেড়ে দেশান্তরে যায় না। সেই তুলনায় নগন্য সংখ্যক মুসলমান ভারত ছেড়ে পূর্ববঙ্গ তথা পূর্ব পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। ২০২২ সালে দেখা যায় বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা কমতে কমতে ৭.৯৫ শতাংশে নেমেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.আবুল বরকত তার বই‘Political economy of reforming agriculture-land-water bodies in Bangladesh’-এ বলেছেন,প্রতিদিন গড়ে ৬৩২ জন হিন্দু বাংলাদেশ ছাড়ছেন।এই ট্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী ৩০ বছরে বাংলাদেশ হিন্দু শূন্য হবে। বাংলাদেশ হয়তো তাই চায়। তাই প্রশাসন,সেনা,আধা সেনা ও পুলিশও ইসলামিস্টদের সঙ্গে হিস্দু নির্যাতনে শরিক হয়। অবশ্য এবার হিন্দুরাও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করেছে বোঝা যায়।
Comments
Post a Comment